Friday, 21 August 2015

‘কুরআন, হাদীছ ও ইজমায়ে উম্মত ও ক্বিয়াসে শারঈক


Suhayel Ahmed Nasim
সমালোচনা-১ : ‘আহলেহাদীছদের নিকটে শারঈ দলীল স্রেফ দু’টি। ১. কুরআন ২. হাদীছ। তৃতীয় কোন দলীল নেই’।
জবাব : নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, لا يجمع الله أمتي على ضلالة أبدا ‘আল্লাহ আমার উম্মতকে কখনো গোমরাহীর উপরে ঐক্যবদ্ধ করবেন না’।[2] এই হাদীছ দ্বারা ইজমায়ে উম্মত (উম্মতের ইজমা)-এর দলীল হওয়া প্রমাণিত হয়।[3]
হাফেয আব্দুল্লাহ গাযীপুরী মুহাদ্দিছ (মৃঃ ১৩৩৭ হিঃ) বলেন, ‘এর দ্বারা কেউ যেন এটা না বুঝেন যে, আহলেহাদীছরা ইজমায়ে উম্মত ও ক্বিয়াসে শারঈকে অস্বীকার করে। কেননা যখন এ দু’টি বস্ত্ত কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত হবে, তখন কুরআন ও সুন্নাহর অনুসরণ করলেই ইজমা ও ক্বিয়াসকে মানা হয়ে যাবে’।[4]
প্রমাণিত হ’ল যে, আহলেহাদীছদের নিকটে ইজমায়ে উম্মত (যদি প্রমাণিত হয়) শারঈ দলীল। এ কারণেই মাসিক ‘আল-হাদীছ’ (হাযরো) পত্রিকার প্রায় প্রত্যেক সংখ্যাতেই লেখা থাকত যে, ‘কুরআন, হাদীছ ও ইজমার বার্তাবাহক’। এটাও স্মরণ রাখা দরকার যে, আহলেহাদীছদের নিকটে ইজতিহাদ জায়েয। যেমনটা ভূমিকায় আলোচনা করা হয়েছে। আল-হামদুলিল্লাহ।
ফুটনোট:
[2]. হাকেম, আল-মুস্তাদরাক, ১/১১৬, হা/৩৯৯, সনদ ছহীহ।
[3]. দেখুন : মাসিক ‘আল-হাদীছ’, ১ম সংখ্যা, পৃঃ ৪, জুন ২০০৪ খ্রিঃ। [এখানে উম্মত বলতে ছাহাবায়ে কেরামকে বুঝানো হয়েছে। যেমন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ) বলেন, من ادعى الاجماع فهو كاذب ‘যে ব্যক্তি (ছাহাবীগণের পরে) ইজমা-এর দাবী করে সে মিথ্যাবাদী’ (ইলামুল মুওয়াকক্বেঈন ১/২৪)।-স.স.]
[4]. ইবরাউ আহলিল হাদীছ ওয়াল কুরআন, পৃঃ ৩২।

No comments:

Post a Comment